Sunday, May 13, 2007

একটি ডিনার পার্টি ও ক'জন সাংবাদিক:

ব্লগে লেখা চলছে বছর দু'য়েক ধরে। তার মধ্যে একজন পাঠকের সাথে যোগাযোগ প্রায় গত একজন বছর ধরে। নিয়মিত ই-মেইল চালাচালি। তারপর জানলাম, তিনি খবরের জগতের সাথে জড়িত। আমার অনেক বছরের সিনিয়র। আমি নিজে যদিও খবরের দুনিয়া কেউ না তবে খবরগুলো প্রবলভাবে আমাকে নাড়া দেয়। তাই নিয়ে আমার কীবোর্ড সচল হয়। মৌলবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সমাজ-সংসার নিয়ে যেসব ভাবনা আমার মনকে নাড়া দেয় তা-ই আমি তুলে ধরি আমার আড্ডার পাতায়।

আমার এই পাঠক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ ভার্চুয়াল। তার লেখা আর এডভোকেসীর আমিও ভক্ত। খবর জানলে আর রসদ থাকলে তিনি পাঠিয়ে দেন। আমার লেখা নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানান। লেখার লিঙ্ক পাঠিয়ে দেন অন্য বন্ধুদের কাছে। চলতে থাকে আমাদের ই-মেইল চালাচালি। গতকাল শনিবার রাতে ছিল তার বাসায় আমার ডিনার পার্টির নিমন্ত্রণ। ব্লগার হিসেবে পরিচয়, সেই সূত্রেই নিমন্ত্রণ। ডিনারে মেন্যু ছিল অনেক। এখন তার ফিরিস্তি দিয়ে অন্যদের হিংসের শিকার হতে চাই না। তবে আমার প্রিয় কাবাব ছিল। ছিল খুব মজার লাউ সেমাই। খাবার পর্ব শেষ হলো।

আমি একমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি। তাই চলল বিরামহীন আড্ডা। আসল তাসনিম খলিলের মুক্তি নিয়ে কথা। আসল সংবাদ জগতের কথা। আসল সাহস-ভীরুতা আর গা বাঁচিয়ে চলার কথা। পটভূমির কথা। এলিট, মজদুর, ড্রইংরুম ভিততিক লেখক আর বর্ণচোরাদের কথা। আমি ব্ক্তা ভাল না। কিন্তু শ্রোতা খুবই ভাল। শুনতে থাকি। কিছু বলি না। হাসি। সমমনাদের কথায় তাই হয়তো চায়ের কাপে ঝড় উঠে না। ক্লান্ত হই না।

মাঝে মাঝে ভাবি, বিধাতা আমাকে কেন শুধু দু'টি চোখ আর দু'টি কান দিলেন? আমার চোখ আর কানের বিস্তৃতি যদি বাংলাদেশের আয়তনকে ছেড়ে যেত তাহলে সমস্ত মানুষের দু:খ-কস্ট-যন্ত্রণা শুনে-দেখে আমার হৃদয়ে ধারণ করে নীলকন্ঠ হতাম। নীলকন্ঠ হয়ে উঠা হয় না। সমুদ্রের স্যালাইনিটি বাড়তে থাকে। আমার অক্ষমতা আমাকে পীড়া দেয়। ভর্তসনা শুনতে হয় অন্যদের। মনে হয়, চোখ থাকতে অন্ধ হয়ে আছি। তেলে মাথায় সবাই তেল দেয়। আমিও তার বাইরে না। আর যারা গন্ধ খুঁজে তারা মিটমিট করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ, এই অক্ষমদের জটলায় আমিও বসে আছি। আমার শত্রু আমার অক্ষমতা, আমার একান্ত মানবিক সীমাবদ্ধতা।

সাংবাদিক তাসনিম মুক্তি পেয়েছেন। আহমেদ নুর পাননি। অপূর্ব শর্ম্মা পাননি। তারাও সাংবাদিক। তারা ঢাকা শহরের না। তারা ব্লগান না। তারা শিরোনাম হন না ব্লগে বা পত্রিকার পাতায়। তাসনিম খলিল শিরোনাম হয়েছেন সিএনএন, ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন, বিবিসি আরও অনেক পত্রিকা আর ব্লগের পাতায়। অন্য সাংবাদিকরা চোখের আড়ালে, তাই তারা কি আমাদের মনের আড়ালে? দোষ দেওয়া সহজ। লেখা কঠিন। প্রোফাইল তৈরী করা কঠিন। তাই চলুন সচল হোক তাদেরকে নিয়ে সকল ব্লগারদের কীবোর্ড। তাদের প্রোফাইল তৈরী করে ছবি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলার তথ্যগুলো তুলে ধরুন। তাসনিম আমাদের জন্য একটা কাজ সহজ করে দিয়েছেন। যারা তাসনিমের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিলেন, সেইসব পশ্চিমা মাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক গিল্ড আর এলিট ব্লগাররা এখন নীরব থাকবেন কিভাবে?

আমি কথা দিচ্ছি আমার সাধ্যমতো তাদের প্রোফাইলগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে তুলে ধরার চেস্টা করবো। তার সাথে আশা করি পাব সতীর্থ ব্লগারদের। বাংলাদেশের বুকের উপর হিমালয় পর্বত বসে থাকতে পারে। কথা সত্য ও বাস্তব। কিন্তু হিমালয় পর্বতও হেলে পড়বে যখন সকল সচেতন জনতা ঠেলতে শুরু করবে। কথাটা আমার না। এটা ইতিহাসের দেয়াল লেখনী। অনেকের পড়তে একটু সময় লাগে এই যা!

1 comment:

swadhinatatumi said...

ধন্যবাদ একা একা দিনার খাওয়ার জন্য।